logo
প্রকাশ: ০৮:১৬:০০ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৮
এপ্রিলেই ঘূর্ণিঝড়-দাবদাহ-বন্যার আশঙ্কা

বিআর রিপোর্ট

ফাগুনের শুরুতেই দেশের কোথাও কোথাও কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা চৈত্র মাসেও অব্যাহত রয়েছে। কালবৈশাখীর পাশাপাশি দেশের উত্তর বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ছিল ব্য

আবহাওয়া অধিদফতরের ত্রৈমাসিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, এপ্রিল ও মে মাস জুড়েই বেশ কয়েকটি কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে উপক‚লীয় জেলাগুলোর জন্যও রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস। আর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গে তাপমাত্রাও ছুঁইছুঁই করবে পারদ ¯Íম্ভের ৪০ এর ঘর।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদফতর থেকে এমনই বৈরী আবহাওয়ার সংকেত দেওয়া হচ্ছে। ত্রৈমাসিক এ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দেখা যায়, এপ্রিল ও মে মাসে দেশের সর্বত্র স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বেশি হতে পারে। এপ্রিলে ঢাকাতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১৫০ মিলিমিটার হলেও তা এ বছর ১৬৫ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আর মে মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ২৯২ মিলিমিটার গিয়ে ঠেকতে পারে ৩২০ মিলিমিটারে। তবে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্রা ২৬১ মিলিমিটার হলেও তা কমে ১৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এদিকে এপ্রিলের শেষে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে দুটি নিম্নচাপের আশঙ্কা দেখছে আবহাওয়া অফিস। যার অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই অবস্থা থাকবে মে মাসেও। অন্যদিকে বৈশাখের শুরুতে দেশের ওপর কালবৈখাশীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। এপ্রিলে উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে ৩ থেকে ৪ দিন মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রা কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। আর দেশের অনত্র মাঝারি মাপের ২ থেকে ৩টি কালবৈশাখীও হানা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।

মে মাসের শুরুতে সারা দেশে ২ থেকে ৩টি তীব্র মাত্রার ও ৩ থেকে ৪টি মাঝারি মাত্রার কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

ঘুর্ণিঝড় ও কালবৈশাখীর পাশাপাশি দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে ২ থেকে ৩টি মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপ প্রবাহ হতে পারে, যার একটি তীব্র দাবদাহে রূপ নিতে পারে। আর মে মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে দুটি তীব্র, এবং অন্যত্র ২ থেকে ৩টি মাঝারি তাপপ্রবাহের আশঙ্কার কথা বলেছে আবহাওয়া অফিস।

জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস পর্যালোচনা কমিটির পরিচালক আবহাওয়াবিদ সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ুর চরিত্র অনুযায়ী এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। পাশাপাশি তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বঙ্গোপসাগরে বেশ কয়েকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার দুটি নি¤œ চাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলের স্বাভাবিকের তুলনায় এপ্রিল ও মে মাঝে ৪০ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীগুলোর পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এতে এপ্রিলের শেষ নাগাদ এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে।