03:04 PM, 08 Apr 2018
আয়নাবাজি : অন্যের মামলায় কারাবন্দি নারী-পুরুষ

বিআর রিপোর্ট

একটি রিকশা ও স

সম্প্রতি 'আয়নাবাজি' সিনেমার মতো এই ঘটনার কথা সামনে আসে। অন্যের বদলি জেল খাটা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার ছোট কুড়িপাইকা গ্রামের রিকশা চালক সেলিম মিয়া ও একই উপজেলার নুরপুর গ্রামের কাউসার মিয়ার স্ত্রী হাজেরা বেগম।

জানা যায়, সেলিম মিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল মাদক মামলার আসামি হান্নান মোল্লার। সম্প্রতি টাকার বিনিময়ে তাকে মাদক মামলায় বদলি হাজিরা দিতে বলেন হান্নান। প্রস্তাবে রাজী হলে হান্নান ১১ মার্চ সেলিমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে ৫শ' টাকা দেয়। এসময় সেলিমকে একটি রিকশা কিনে দেয়ার আশ্বাসও দেন সেলিম। পরে সেলিমকে মোটরসাইকেল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে যান তিনি। ওই দিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে সেলিম নিজেকে হান্নান মোল্লা বলে পরিচয় দিয়ে হাজিরা দেন। আদালত তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

সেলিমের পরিবারের সদস্যরা বলেন, সেলিমকে ৫/৭ দিন কারাগারে থাকতে হবে বলে কথা দিয়েছিল হান্নান। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ২৩ মার্চ জেল সুপার কারাগার পরিদর্শনকালে ঘটনাটি অবহিত হন। পরে ২৪ মার্চ সংশ্লিষ্ট আদালতে তা জানান তিনি। সেলিমের স্ত্রী হোসনা জানান, হান্নান আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে এসে নিয়ে গেছে এবং আমাকে ৫শ' টাকা দিয়ে গেছেন। আর বলে গেছেন, রিকশা চালাতে হবে না। রিকশা কিনে দেবেন তিনি। এই বলে মোটরসাইকেল করে তাকে নিয়ে যায়। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। ৫/৭ দিন পর কারাগার থেকে ফোন আসে আমার স্বামী জেলে। তিনি বলেন, আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে উপবাসে আছি। স্বামী সেলিমকে ফেরত দেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন জানান।

সেলিমের বাবা আবুল ফয়েজ বলেন, আমার ছেলেকে ঠকিয়ে নিয়ে জেলে দিয়েছে। আমি ছেলের মুক্তি এবং হান্নান মোল্লার বিচার চাই। অন্যদিকে, স্বামীর চিকিৎসা খরচের আশায় অন্যের মাদক মামলায় হাজিরা দিয়ে কারাবন্দি হয়েছেন হাজেরা বেগম। আখাউড়ার শোভা বেগম (৪০) নামে এক মাদক মামলার আসামির মামলায় হাজির দেন হাজেরা। এক আইনজীবী হাজেরার অসুস্থ স্বামী ও তার সন্তানদের ভরণ-পোষণের আশ্বাস দিয়ে বদলি হাজিরার কাজটি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইনজীবীর পরামর্শ মতে, গত ৬ মার্চ শোভা বেগমের মাদক মামলায় হাজেরা বেগম আদালতে উপস্থিত হন। আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজেকে শোভা বেগম (৪০) দাবি করেন। পরে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। হাজেরার মেয়ে হালিমা বলেন, আমার মা-ই সব কিছু। বাবার অসুস্থতার কারণে উকিল আমাদের সংসার চালানো ও বাবার চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান। এই কথা বলে উকিল মাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম আম্মা বুঝি আব্বার চিকিৎসার টাকা আর আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু পরে জানতে পারি উকিল আমাদের মাকে জেলে ভরছে। এখন আমরা মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে খেয়ে বেঁচে আছি।

এদিকে, বদলি হাজিরার ঘটনা জানাজানির পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশের পর সদর থানায় মাদক মামলার আসামি হান্নান মোল্লা ও কারাগারে দুই বন্দির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সেই সাথে মামলার আইনজীবী মোছা. দোলন আরাকে আদালত শো-কজ করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাবলিক প্রসিকিউটর, আইনজীবী এসএম ইউসুফ বলেন, মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই আইন বর্হিভূত ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পিপিএম বার বলেন, প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হান্নান মোল্লা ঘটনার পর পর ভারতে পালিয়ে গেছে; আমরা তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি।